একশ দশতম অধ্যায়: সুপ্ত ড্রাগন দ্বিতীয় দল
তৃতীয় সেনাদলের লংতেং বাহিনীর শাখা প্রধান কতটা রাগী, তা সবাই খুব ভালো করেই জানত।
যুদ্ধনীতি অনুযায়ী, প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা রক্ষা না করা চলত না।
আর এই কথা তুলতেই চারপাশের সবাই নিঃশব্দ হয়ে গেল, সবার দৃষ্টি একসঙ্গে সেই তরুণের দিকে পড়ল।
তরুণটি ছিল স্থির, নির্বিকার ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে।
“তুমি বলছো, তোমার গুরু আর রসদ বিভাগের উপ-অধিনায়ক ভালো বন্ধু? সত্যি?”
কথাটা শুনে সবাই একটু থমকে গেল।
কিছুক্ষণ আগের সেই তীব্র আলোচনার মাঝেও কেউ যেন হঠাৎ দম আটকে গেল।
“মিথ্যে বলছি কেন?”
তরুণটি হেসে বলল, “আমি তো কেবল আমার পাওনা ফেরত চাইতে এসেছি।”
শাখা প্রধানের ঠোঁটের কোণে ঠান্ডা হাসি ফুটে উঠল।
“সামান্য এই কয়েকটি যুদ্ধলভ্য ধনসামগ্রী নিয়েই এত বাড়াবাড়ি করছ?”
“সামান্য?”
তরুণের চোখ এক ঝলক জ্বলল, “যা আমার ন্যায্য, তা সামান্য হলেও আমি ছাড়ব না। আর যেটা তোমার প্রতিশ্রুতি, সেটা বড় হলেও আমি ফেরত নেবই।”
তার কণ্ঠে বিন্দুমাত্র নরম ভাব ছিল না।
সে স্পষ্টই বুঝে গিয়েছিল, এ ধরনের মানুষকে নরম পথে কিছুতেই রাজি করানো যাবে না।
শাখা প্রধানের মুখ আরও কঠিন হয়ে উঠল।
সে এক পা এগিয়ে এল।
“তাহলে দেখি, তুমি কীভাবে নিয়ে যাও।”
“নিয়ে যাওয়ার দরকার হবে না।”
তরুণ ধীর স্বরে বলল, “আমি চাই, তুমি স্বীকার করো যে তুমি হেরেছ, আর তখনই তোমার কথা রাখতে হবে।”
এই কথায় চারদিকে বিদ্যুৎ চমকের মতো উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ল।
সবার চোখে অবিশ্বাস।
এই ছেলেটি কি সত্যিই এমন সাহস রাখে?
একজন মাত্র তৃতীয় স্তরের যোদ্ধা, সে কি সত্যিই শাখা প্রধানের মুখোমুখি হয়ে এভাবে কথা বলতে পারে?
শাখা প্রধানের চোখ সঙ্কুচিত হল।
“তোমার সাহস কম নয়।”
“সাহস না থাকলে আমি কেন এসেছি?”
তরুণ উত্তর দিল, “আমি শুধু আমার জিনিস ফেরত চাই।”
কথা শেষ হতেই শাখা প্রধানের মুখের শীতলতা হঠাৎ আরও গাঢ় হয়ে উঠল।
তার চারপাশে যেন অদৃশ্য চাপের স্তর নেমে এলো।
কিন্তু তরুণটির চোখে একটুও ভয় নেই।
সে জানত, এই মুহূর্তে এক পা পিছু হটলেই সব শেষ।
তাই সে কেবল স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল, নিজের দাবিতে অটল।