নিষিদ্ধ শক্তি জন্ম নিল, ঘুরে বেড়াতে বেড়াতে একের পর এক শূন্যতার স্তর পেরিয়ে গেল, অগাধ তারার সমুদ্রের ওপর দিয়ে ছুটে, অবশেষে সেই পৃথিবীতে এসে পড়ল যেখানে আত্মিক শক্তি মাত্রই জেগে উঠেছে। এর ফলে এক নতুন কিংবদন্তির উত্থান শুরু হলো। সু লোর জীবনের মূলমন্ত্র ছিল—একটিও ভেড়া যেন হাতছাড়া না হয়; সবচেয়ে মোটা ভেড়া, সবচেয়ে দামি পশমই তার লক্ষ্য!
রাত নেমে এলো, ঘন কালো পর্দা সূর্যাস্তের শেষ আলোকে পুরোপুরি ঢেকে দিল।
আকাশ মলিন, স্যাঁতসেঁতে সমুদ্রের বাতাস সুচকিতভাবে সুলোর বিমূঢ় মুখে এসে লাগছে।
নাক দিয়ে হালকা গন্ধ টেনে সে টের পেল বাতাসে সামান্য কাঁচা মাছের গন্ধ মিশে আছে।
স্কুল ছুটির পর বিবর্ণ নীল চামড়ার ব্যাগ পিঠে নিয়ে সুলো ধীরে ধীরে সৈকত ধরে হাঁটছে।
ক্লাস শিক্ষকের কথাগুলো ভারী বোঝার মতো সুলোর মনে চেপে বসেছে, ফলে বিকেলের পুরো তাত্ত্বিক ক্লাস সে যেন ঘোরের মধ্যে কাটিয়ে দিয়েছে।
এটাই ছিল সুলোর জীবনের পথ নিয়ে প্রথম গম্ভীর চিন্তা। সুলোর পরিবার সাধারণ, বাবা গাড়ির গ্যারাজে কাজ করেন, মাসে চার-পাঁচ হাজার টাকার মতো সামান্য আয়।
মা বাড়ির দেখাশোনার সুবিধার জন্য সেলাইয়ের দোকানে খণ্ডকালীন শ্রমিক, মাসে মাত্র তিন হাজার টাকার মতো আয় হয়।
সুলোর নিচে আছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভাই ও মাধ্যমিকে পড়া বোন, পাঁচ জনের সংসার পুরোটা চলে বাবা-মায়ের আয়ে।
দিনযাপন খুব কষ্টকর না হলেও সঞ্চয় তেমন কিছুই হয় না।
আজ সকালে সুলোর ক্লাসে ক্লাস শিক্ষকের নেওয়া ক্লাস মিটিং-এ উচ্চমাধ্যমিক ছাত্র হিসেবে তাকে সমাজের বাস্তবের মুখোমুখি করা হলো।
সাথে নিয়মমাফিক নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সুযোগও দেওয়া হলো।
এ পৃথিবীতে যোদ্ধা ও সাধারণ মানুষের সহাবস্থান বহু আগেই সাধারণ ব্যাপার হয়ে গিয়েছে।
ত্রিশ বছর আগে প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বদলে যোদ্ধা বিশ্ববিদ্যালয় সমাজের মূলধারা হয়ে ওঠার পর থেকেই যোদ্ধাদের আবির্ভাব জনসাধারণের সামনে ঘটে।
তবে প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখনো আছে, কিছু যোদ্ধা বিশ্ববিদ্যালয়ে যুক্ত হয়েছে, কিছু এখনো স্বাধীন, তবে সেখানে যোদ্ধা বিষয়ও পড়ানো হয়।
অর্থাৎ ত্রিশ বছর আগ থেকেই হুয়াশা দেশে যোদ্ধাদের গড়ে তোলার শিক্ষা শুরু হয়েছে।
উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো যোদ্ধা বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন রক্ত সঞ্চা