অধ্যায় ৫২: শিল্ড সংস্থার সম্পূর্ণ বিনাশ

ডিএনএফ ঢুকে পড়ল মার্ভেল জগতে হাইবারনের শাসক 2834শব্দ 2026-03-06 01:24:01

একদল মানুষকে নিয়ে গুদামে প্রবেশের পর, লুক একটি চেয়ারে বসে ‘ক্ষতিপূরণ’-এর খুঁটিনাটি নিয়ে লবনাক্ত ডিমের সঙ্গে উত্তপ্ত তর্কে লিপ্ত হয়। অ্যাডামানটিয়ামের পরিমাণ নিয়ে, দুই পক্ষই একচুলও ছাড় দিতে রাজি নয়।

বাকি সবাই কাজের ফাঁকে গুদামে ঘুরে ঘুরে দেখছিল। ব্ল্যাক উইডো ও বাজপাখি তাদের গাইড হিসেবে কাজ করছিল। গুদামে রাখা বিভিন্ন জিনিস দেখার সময়, শিল্ডের লোকজনের চোখে ছিল কৌতূহল ও বিস্ময়। ব্ল্যাক উইডো ও বাজপাখি এসব আগেও দেখেছে, কিন্তু যারা দেখেনি, সেই শিল্ড এজেন্টরা যখন ছ’মিটার উঁচু কিংবদন্তীতুল্য দৈত্যাকার মেকসুটটি নিজের চোখে দেখল, তাদের মুখ অবাক বিস্ময়ে ভরে উঠল।

শিল্ডের এজেন্টরা সাধারণত অনেক কিছু দেখে অভ্যস্ত। কিন্তু এমন কিছু তাদের জীবনেও চোখে পড়েনি। যদি নিজের চোখে না দেখত, তারা কোনোভাবেই বিশ্বাস করত না যে, এসব সাত বছরের এক শিশুর তৈরি করা!

ডিএনএফ ও গান্ডামের মিশ্রণে তৈরি লুকের অনন্য মেকসুট, পুরো মার্ভেল জগতে একমাত্র, যার নিজস্ব স্বকীয়তা অদ্বিতীয়। কয়েকজন শিল্ড এজেন্ট নিজেদের মধ্যে এ নিয়ে আলাপ শুরু করল।

একজন এজেন্ট অসমাপ্ত জি-০ যুদ্ধপ্রভুর দিকে তাকিয়ে গম্ভীর স্বরে বলল, ‘‘এটা স্পষ্টভাবেই রুশদের নকশা নয়, আবার আমেরিকানদেরও নয়। মনে হয় দু’পক্ষের কিছু বৈশিষ্ট্য আছে, কিন্তু পুরোপুরি নয়।’’

আরেকজন বলল, ‘‘এটা জার্মানদেরও না। আমি জার্মানদের গোপনে বানানো রোবট দেখেছি, সেগুলোর সঙ্গে এর কোনো মিল নেই।’’

এক নারী এজেন্ট বলল, ‘‘আমার তো বরং জাপানিদের স্টাইলের কিছুটা ছাপ আছে বলে মনে হয়।’’

‘‘জাপানিদের?’’

‘‘তোমরা কি কমিকস পড়ো না? ওই যে, শক্তিশালী বর্ম নিয়ে জাপানি কমিকস, এইটা অনেকটা সেরকম বর্মের মতো দেখতে। হয়তো ছেলেটা সেখান থেকে কিছু ধার নিয়েছে।’’

‘‘কমিকস? ধুর, কল্পনার জিনিস দিয়ে এসব বানানো সম্ভব? মজা করো না।’’

দুই পুরুষ এজেন্ট হাসল। নারী এজেন্ট কাঁধ ঝাঁকাল, সেও তো শুধু কথার ছলে বলেছিল। কিন্তু তারা জানত না, সে-ই আসলে সত্যের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। লুক যখন জি-০ যুদ্ধপ্রভুর নকশা পরিবর্তন করছিল, তখন তার অনুপ্রেরণা ছিল এক ক্লাসিক জাপানি এনিমের মেকসুট। অবশ্য এবার সেটা গান্ডাম ছিল না, তবে নকশায় ছিল চমৎকারিত্ব ও বিজ্ঞান কল্পনার ছাপ।

কার্যকারিতা? সেটা কী? মেকসুটের ফিচার তো সময়ের সঙ্গে আপডেট করা যায়। কিন্তু স্টাইল? সেটা চিরকালের!

ব্ল্যাক উইডো ও বাজপাখি পাশাপাশি দাঁড়িয়ে ছিল। ব্ল্যাক উইডো জিজ্ঞেস করল, ‘‘তুমি কী মনে করো?’’

বাজপাখি বাহু জড়িয়ে, মাথা উঁচিয়ে যুদ্ধপ্রভুর দিকে তাকিয়ে কিছুটা চিন্তিত স্বরে বলল, ‘‘তোমার অদ্ভুত লাগে না, নাটাশা?’’

‘‘অদ্ভুত?’’

‘‘এটা কেন বর্গাকৃতি?’’

ব্ল্যাক উইডো হঠাৎ বুঝতে পারল, হ্যাঁ, ওই ছোট সাদা মেশিনটিও তো বর্গাকৃতি। বাইরে থেকে দেখলে একটু অদ্ভুতই লাগে, কারণ যতই উঁচু হোক, দৃশ্যত মনে হয় নিচু।

‘‘তবে কি লুকের খাস স্বাদ এই রকম ঘনবর্গের প্রতি?’’ ব্ল্যাক উইডো বলল।

বাজপাখি কাঁধ ঝাঁকাল, ‘‘কে জানে। এই ছেলেটা আমাদের কারও বোধগম্য নয়। হয়তো এর পেছনে জটিল কোনো প্রযুক্তিগত কারণ আছে।’’

‘‘এই, চুরি করবে না!’’, লুক কিছু দূর থেকে সতর্ক করল।

ব্ল্যাক উইডো ও বাজপাখি চোখাচোখি করল, ব্ল্যাক উইডো মাথা নাড়িয়ে হাসল। তারা কেউই খেয়াল করেনি, পাশের মেকসুট ঘাঁটিতে রাখা শূন্য আকাশযুদ্ধযানে এক হাতের তালু সমান, অতি ছোট্ট, পা-হীন অক্টোপাসটি মাছের ট্যাঙ্কে বসে কৌতূহলী চোখে আগন্তুকদের পর্যবেক্ষণ করছে…

ঠিক তখনই, কয়েকজনের মুখভঙ্গি হঠাৎ অস্বাভাবিক হয়ে উঠল। পুরো গুদামে, লুক ছাড়া বাকিরা— এমনকি লবনাক্ত ডিমও— একই সময়ে উঠে দাঁড়াল।

লুক লক্ষ্য করল, তাদের মুখে প্রাণহীন শূন্যতা। এক মুহূর্ত পরে, স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে এল।

ব্ল্যাক উইডো লবনাক্ত ডিমকে কয়েকবার লক্ষ্য করল, এগিয়ে গিয়ে তার কালো লম্বা কোট ছুঁয়ে হাসল।

‘‘লবনাক্ত ডিম, অনেকদিন ধরেই জিজ্ঞেস করব বলে ভাবছিলাম, এত গরমে সব সময় লম্বা কোট পরো কেন, কষ্ট হয় না?’’

লবনাক্ত ডিম হাসতে হাসতে বলল, ‘‘এটা না করলে আমার ডিরেক্টরের মর্যাদা থাকে কী করে। এ জন্যই অফিসে এসি কম রাখি। বাইরে একটু আগে কথা বলার সময় তো প্রায় গরমে মরে যাচ্ছিলাম।’’

বলেই সে কালো কোট খুলে মাটিতে ছুঁড়ে ফেলল। ভেতরের পোশাক ঘামে ভিজে গেছে।

‘‘তুমি আমাকে লবনাক্ত ডিম কেন ডাকো?’’ সে কৌতূহলভরে জিজ্ঞাসা করল।

‘‘তুমি তো কালো!’’ ব্ল্যাক উইডো হাসতে হাসতে বলল।

‘‘ওহো? হা হা হা!’’ লবনাক্ত ডিমও হেসে উঠল।

বাজপাখি অম্লান হাসে, ‘‘জানো তো, তোমার এই নামটা আমি রটিয়েছি। এখন অফিসের সবাই জানে তুমি লবনাক্ত ডিম।’’

লবনাক্ত ডিম কিছু মনে করল না, বাজপাখির সঙ্গে গলা মিলিয়ে হেসে উঠল, ‘‘হা হা হা হা…’’

বাকি এজেন্টরাও হেসে উঠল।

ব্ল্যাক উইডো কপাল চেপে বলল, ‘‘আমার মাথা একটু ঘুরছে মনে হচ্ছে। হি হি হি…’’

এই দৃশ্যপট…

লুক বিস্ময়ে মুখ হাঁ করে তাকিয়ে ছিল।

এতক্ষণে শোনা গেল, লোটাসের প্রতারক স্বর, ‘‘মূর্খ মানবজাতি! নিরুপায় মানবজাতি! অনুভব করো আমার, অষ্টম দূত, লম্বা পা-ওয়ালা লোটাসের প্রকৃত শক্তি! হাহা!’’

‘‘লোটাস!’’ লুক এগিয়ে গিয়ে ডাকল।

‘‘কী চাও?’’ লোটাস বিরক্ত হয়ে মুখ ফিরাল।

‘‘তোমার কাণ্ড দেখো, থামো এখনই!’’

‘‘তুমি কি ভাবো না, এইসব মূর্খ মানুষের মুখোশ খুলে, তাদের অন্তরের সত্যি কথা বের করে আনা খুব মজার? বলো তো? বলো?’’

লোটাস উত্তেজিত হয়ে জলতলে নাচতে লাগল।

লুক কপাল চাপল, মাথা ঘুরতে লাগল।

ডিএনএফ-এ লোটাসের শুঁড়ের আঘাতে ঘোর, বিভ্রান্তি, ঘুমের মতো নানা নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। আর লোটাসের সবচেয়ে শক্তিশালী ক্ষমতা মানসিক নিয়ন্ত্রণ।

লবনাক্ত ডিমদের আচরণ হঠাৎ এমন হয়ে যাওয়া মানেই লোটাসের কারসাজি।

লুক বুঝতে পারল না, হঠাৎ লোটাসের শক্তি কীভাবে জাগ্রত হল। আগে তো এসব ছিল না। তবে কি আধা মাস ঘুমানোর ফল?

এই সময়ে বাজপাখি ব্ল্যাক উইডোর দিকে মধুর কণ্ঠে বলল, ‘‘নাটাশা, আমি কখনো তোমাকে বলতে পারিনি, আসলে আমার অনুভূতি তোমার জন্য এখনও রয়ে গেছে। তুমি কি টের পাও? দেখো, এটাই আমার হৃদস্পন্দন…’’

ব্ল্যাক উইডোর ঠোঁটে রহস্যময় হাসির ছায়া, সে বাজপাখির দিকে তাকাল, ‘‘ওহ, প্রিয় ক্লিন্ট। তুমি দারুণ। কিন্তু, দুঃখিত, তোমাকে সত্যি কথা বলতে হচ্ছে, আমি আসলে ভালোবাসি শিলকে।’’

হঠাৎ বাজপাখির হৃদয় টুকরো টুকরো হয়ে গেল, সে ভগ্নহৃদয় ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে রইল…

লুক মুখ ঢেকে কাঁধ কাঁপাতে লাগল। ব্ল্যাক উইডো কি সমকামী? চরিত্র পুরো ভেঙে গেল!

‘‘যাক, লোটাস, আর কষ্ট দিও না। আমি তো শিল্ডের কাছ থেকে অ্যাডামানটিয়াম নিয়ে মেকসুট শক্তিশালী করব ভেবেছিলাম।’’

‘‘ধুর! কোনো মজা নেই!’’

লোটাস বলেই, মুহূর্তে সবাই মাটিতে লুটিয়ে ঘুমিয়ে পড়ল।

লবনাক্ত ডিম মুখ থুবড়ে পড়ল…

শেষপর্যন্ত, শিল্ডের পুরো দল লুকের কাছে পর্যুদস্ত হয়ে গেল…

শিল্ডের এজেন্টদের এভাবে ছড়িয়ে পড়ে থাকতে দেখে লুক হতবুদ্ধি হয়ে গেল।

আবার ঘুমিয়ে গেল? ‘‘এবার উঠলে কী বলব?’’

লুক নির্বাক। মনে মনে ভাবল, এই লোটাসকে সঙ্গে নিয়ে সে কখনোই আর চুপচাপ থাকতে পারবে না।

দুজনেই ঝামেলা করে, তবে লোটাসের কায়দা সম্পূর্ণ আলাদা।

লুক নিজেকে মৃদু পথের কৌশলবাজ বলে মনে করে— ঘটনা ঘটলেও নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করে। আর লোটাস? সে তো পাগল, বাজপাখিও না— ওর নিজস্ব স্টাইল আছে।

ওর স্টাইল এক কথায়— এগিয়ে চল!

কিছুই তোয়াক্কা করে না, প্রতিবারই বড়সড় কিছু ঘটাতে চায়।

হয়তো একে বলা যায় অক্টোপাস পথ?

আসলে খুব বেশি সময় যায়নি, লবনাক্ত ডিমরা পাঁচ মিনিটের মধ্যেই জেগে উঠল।

সবাই আশেপাশে অবাক হয়ে তাকাল।

‘‘কি হয়েছিল?’’ লবনাক্ত ডিম মুখ চেপে বলল, মাথা ধরেছে।

‘‘মনে হয় কিছু সময়ের স্মৃতি হারিয়ে ফেলেছি,’’ পেশাদার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্ল্যাক উইডো কপাল কুঁচকে বলল।

লবনাক্ত ডিম কঠিন মুখে লুকের দিকে তাকাল, ‘‘তুমি আমাকে একটা যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা দিতে হবে!’’