তোমরা কি কখনও বিবাহফলকের কথা শুনেছো? এই ফলক পুরুষের জন্য নিলে, বিয়ের চিন্তা থাকে না; নারীর জন্য নিলে, সহজেই বিয়ে হয়। আমার দাদু ছিলেন বিবাহফলক বিক্রেতা। আমি লোভের বশে তাঁর বেঁধে দেওয়া নিয়ম ভেঙে ফেলেছিলাম, আর তাতে আমি অল্পের জন্য...
তোমরা কখনো শুনেছো ‘বিবাহফলকের’ কথা? নাম থেকেই বোঝা যায়, এটি ভাগ্যগণনার একধরনের ফলক, যা বিয়ের জোড়া মেলাতে সাহায্য করে। যার কাছে এই ফলক আছে, তার বিয়ে নিয়ে আর কোনো দুশ্চিন্তা থাকে না। অবিবাহিত পুরুষের দরজায় বিধবা নারীর লাইন পড়ে যায়।
আমার দাদা ছিলেন এই বিবাহফলক বানানো ও বিক্রির ব্যবসায়ী। কিন্তু ছোটবেলা থেকেই তিনি আমাকে এসবের কাছাকাছি ভিড়তে দেননি। আমাদের মতো চাষাভুষো পরিবারে পেট ভরানোর চিন্তাই বড় কথা, বিয়ে করা তো আরোই কঠিন। তাই দাদার ব্যবসা দারুণ চলতো।
উচ্চ মাধ্যমিকের পরে আমি কলেজে ভর্তি হতে পারিনি, তাই দাদার দোকানে সাহায্য করতে শুরু করি। যদিও দোকানটাকে সবাই বিবাহফলকের দোকান বলে, আসলে সেখানে বেশিরভাগ সময় বিক্রি হয় ফুলের মালা, কাগজের মূর্তি আর মৃতদের ব্যবহৃত কাগজের টাকা ইত্যাদি শোকসামগ্রী। শুধু বিবাহফলক বিক্রি করে আমাদের পেট চলতো না, বিশেষ করে দাদার স্থির করা নিয়মগুলো মেনে চললে তো আরওই না।
নিয়ম তিনটি ছিল—
প্রথমত, মাসে মাত্র একটি বিবাহফলক বিক্রি হবে।
দ্বিতীয়ত, প্রতিটি ফলকের দাম ঠিক ৪৪৪ টাকা; এক কড়িও বেশি বা কম নয়।
তৃতীয়ত, দাদা যার পছন্দ করেন না, তাকে বিক্রি করবেন না।
দাদার নাম ফং শান, সবাই তাঁকে ফং মহাজন বলেই ডাকে। শোনা যায়, তিনি শুধু বিবাহফলক বানিয়ে জোড়া মেলান না, বরং বাস্তু দেখেন, জীবিত-মৃতের যোগসূত্রও বোঝেন।
সেদিন সকালে দাদা বাস্তু দেখতে বেরিয়ে যাওয়ার আগে আমায় বিশেষভাবে জানিয়ে গেলেন, এই মাসের বিবাহফলক ইতিমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে, কেউ এলে সরাসরি না বলে দেবে।
দাদা বেরিয়ে যাওয়ার কিছু পরেই দোকানের সামনে এসে দাঁড়াল এক দামি গাড়ি। এই গাড়িটা আমি চিনতে পারলাম, তিন দিন আগে এক মোটা লোক এটিতে চড়ে এসেছিল বিবাহফলক কিনতে, দাদা তাকে এক কথায় ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। কারণ ছিল— লোকটিকে দাদা একদমই পছন্দ করেননি!