যে হুক চুরি করে, তার শাস্তি মৃত্যু; আর যে দেশ চুরি করে, সে হয় রাজা; যিনি সারা জগৎ আর মানুষের হৃদয় চুরি করেন, তিনি হয়ত দেবতা, সাধু বা বুদ্ধ হয়ে ওঠেন। এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের নিয়ম, সীমাহীন; মানুষের মন, অন্তহীন। তবে দেখো, আমি একা, একজোড়া হাতে, কীভাবে এই আকাশ-বাতাস, এই পৃথ্বী, নিঃশব্দে চুরি করি।
কঠিন শীতের রাত, চরম উত্তরে এক অজানা স্থান। সাদা পাহাড় আর কালো জলের দেশে, পাহাড়ের গভীরে লুকিয়ে থাকা এক উপত্যকায় শতবর্ষী কৃষ্ণপাইন বনের ঘন সবুজ বেষ্টনী ঘিরে রেখেছে জনশূন্য এক স্থান। উপত্যকার মাঝখানে মানুষের হাতে তৈরি কয়েকটি সমতল ক্ষেত, আর তার মাঝে সারিবদ্ধ কাঠের ঘরগুলো এমনভাবে গা-ঢাকা দিয়ে আছে যেন যেন পাইন বনেরই অঙ্গ।
অনেকগুলো তরুণ, কেবল ছদ্মবেশী প্যান্ট পরে, বুকে-পিঠে কোনো আবরণ নেই, উন্মুক্ত পা, বলিষ্ঠ দেহ আর কাঁধে মোটা গোল কাঠের গুঁড়ি—তারা কেউ পাহাড় বেয়ে দৌড়চ্ছে, কেউ ঘন বনে ছুটছে, কেউ মানুষের তৈরি বাধার ভেতর দিয়ে চড়াই-উৎরাই করছে। বাইরে তাপমাত্রা শূন্যের নিচে ত্রিশ ডিগ্রি, অথচ এদের শরীর থেকে গরম ভাপ উঠছে, ঘাম ঝরছে ঝরঝরিয়ে। তামাটে চামড়ার নিচে ওদের শিরা যেন মাটির কেঁচোর মতো ফুলে উঠেছে, চলাফেরায় ছড়িয়ে পড়ছে এক দুর্দমনীয় শক্তির অনুভূতি।
রোগীর পোশাক পরা তান লাং একটি কাঠের ঘরের জানালার কাছে দাঁড়িয়ে, ঠোঁটে সিগারেট চেপে, অপলক তাকিয়ে আছে এই তরুণদের দিকে যারা হিমশীতল প্রকৃতিতে প্রাণ আর তারুণ্যের উষ্ণতা ঢেলে দিচ্ছে। সিগারেটের ধোঁয়া তার মুখের সামনে ঘুরপাক খাচ্ছে, আড়াল করছে তার অগোছালো দাড়িতে ঢাকা মুখের বিভ্রান্তি আর অসহায়ত্ব।
জানালা পুরোপুরি খোলা, ঘরের ভেতরের তাপমাত্রা বাইরের মতোই শীতল। তান লাংয়ের গায়ে শুধু নীল-সাদা ডোরাকাটা রোগীর পোশাক, দুটো লোমশ পা আকাশের মতো ঠান্ডা বাতাসে নগ্ন। তার বাঁ পায়ের গোড়ালিতে পুরু ব্যান্ডেজ, কোথাও কোথাও রক্তের দাগ ফুটে উঠেছে।
শুধু পা নয়, বাঁ কাঁধেও মোটা ব্যান্ডেজ, ওষুধ আর রক্তের গন্ধ মিশে ছড়িয়ে পড়ছে চারপাশে। হঠাৎ এক ঝটকা হিমেল বাতাসে তান লাংয়ের বলিষ্ঠ শরীর কেঁপে ওঠে। সে ঝাঁঝালো গলায় গালাগাল দেয়, ডান হাত যেন হাড়হীন হয়ে পোশাকের গলা বেয়ে পিঠে চলে যায়, চুলকাতে থাকে এমনভাবে যে সাধারণ মানুষ কখনোই পিঠের এমন জায়গায় হাত দিতে পারত না।
কি